Hot Posts

6/recent/ticker-posts

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে সাফল্য, বলছেন আইজিপি



 অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান যৌথ অভিযান ইতিমধ্যেই সাফল্যের মুখ দেখছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. মাইনুল ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অভিযান অব্যাহত থাকায় আরও অস্ত্র উদ্ধার হবে।


আইজিপি বলেন, “পুলিশ বর্তমানে তিন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। এগুলো হলো: পুলিশ, এসএসএফ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে চুরি যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া আগ্নেয়াস্ত্র; লাইসেন্স স্থগিত থাকা অস্ত্র এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র।”

“আমরা ইতিমধ্যেই অনেক অস্ত্র উদ্ধার করেছি। অনেকে (অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র) জমা দিয়েছেন। … আমরা আশা করছি, অভিযানের আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাবে।” মঙ্গলবার মধ্যরাতে শুরু হওয়া এ অভিযান সম্পর্কে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

গত ১৫ বছরে বিক্রি হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে আইজিপি বলেন, ওই সব অস্ত্র ও গোলাবারুদের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং মালিকদের স্থানীয় থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “গত ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। যেসব অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি সেগুলো এখন অবৈধ।”

অভিযানের সময় অপরাধ ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, এ ক্ষেত্রেও অভিযানে ফলাফল এসেছে।

তিনি বলেন, “আমরা দুইজন সাবেক পুলিশ প্রধান এবং এমনকি কার্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও গ্রেপ্তার করেছি। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”

এর আগে, দুটি হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও এ কে এম শহীদুল হককে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানোর জন্য আদালতে হাজির করা হয়।

গত ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে আবু সাঈদ নামে এক মুদি দোকান মালিককে হত্যার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেন।

এছাড়াও, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় আব্দুল ওয়াদুদ (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে শহীদুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেন, “যৌথ অভিযানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা এবং যারা এখনও তাদের অস্ত্র জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, পুলিশ, থানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৫,৮২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬,০৬,৭৪২টি গুলি ছিনতাই করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৩,৭৬৩টি বন্দুক এবং ২,৮৬,০৮২টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অর্থাৎ ২,০৬৬টি অস্ত্র এবং ৩,২০,৬৬০ টি গুলি এখনও উদ্ধারের বাকি আছে।

গত ৫ আগস্ট জনবিদ্রোহের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী বিভিন্ন থানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তেজিত জনতা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি লুট করে নিয়ে যায়।

গত ১২ আগস্ট থেকে পুলিশ সদর দফতর এসব অস্ত্র ও গুলি জমা দেওয়ার জন্য কয়েক দফা সময়সীমা দিয়েছিল। গতকাল ছিল সেই সময়সীমার শেষ দিন।

আজ থেকে সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‌্যাব এবং আনসার সদ্যদের নিয়ে এক যৌথ অভিযান শুরু করা হয়েছে এসব অস্ত্র উদ্ধারের জন্য।











Post a Comment

0 Comments

//]]>